ডিপ্রেশন, সুইসাইড ও সেক্সচুয়ালিটি চিন্তা ভাবনা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন?

আমাকে একজন ডিপ্রেশন, সুইসাইড ও সেক্সচুয়ালিটি চিন্তা ভাবনা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে অনেক রকমের তথ্য পাবেন এবং নিজের লক্ষণের বা অন্যর লক্ষন দেখে করনীয় কি তা বুঝতে পারবেন।

১|আপনার কি কি সমস্যা রয়েছে তার জন্য আপনি কাউন্সিলিং নিতে চাচ্ছেন?

আমি অনেক বেশি ডিপ্রেশনে থাকি। মাঝে মধ্যে সুইসাইড করতেও ইচ্ছে করে। আমি কোন কিছু সহজভাবে নিতে পারি না। কোন কিছু হইলেই পেনিক করতে থাকি আমার ট্রাস্ট ইসু্য ও অনেক। আসলে আমার অনেক খারাপ চিন্তা হয় যেমন সেক্সুয়্যালিটি চিন্তাভাবনা আরকি। এমনকি মেয়ে, ছেলে, প্রাণি কোনটার চিন্তাই বাদ থাকে না। যার জন্যে আমি কারোর সাথে কমিনিউকেশনে করতে পারি না ভয় হয়।

মনে হয় সবাই খারাপ। বা কেউ আমার সুযোগ নিবে। আসলে random চ্যাট করতাম একসময়। তখন এসব মানুষ অনেক পাইছি। সেজন্য আমার একা থাকার ইচ্ছেটা বেড়ে গেছে। কিন্তু পুরাপুরি থাকতেও পারি না। দম বন্ধ লাগে মাঝে মধ্যে। আমার তখনই সুইসাইড করার চিন্তা আসে। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হয় ছাদ থেকে লাফ মারতে। একবার গলায় দড়ি দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারি নাই।

এছাড়াও আমি একটা জিনিস বার বার চেক করি। যেটা খুবই অস্বস্তি লাগে আমার কাছে। মাঝে মধ্যে ধর্ম নিয়েও বাজে চিন্তা আসে। যার জন্য ঠিক মতো ধর্ম পালন করতে পারি না। ফ্যামেলিকেও অসহ্য লাগে মাঝে মধ্যে। আমার একা থাকতে খুব একটা ভয় লাগে না আগে যেমন লাগতো কিন্তু মাঝে মধ্যে ঘুমাতে ভয় লাগে। যার জন্য অনেক রাত জাগি। রাতে ঘুমাতে ভয় করে। মাঝে মধ্যে আমি অনেক অন্যমনস্কও থাকি। একবার তো রাস্তাও হারিয়ে ফেলছিলাম।

২. বর্তমানে কি করলে বা কখন সমস্যাটি হয়?

সমস্যাটি এখনও আছে। সাধারনত রাতে আসে। আর বেশি একা থাকলে। বা কোন কিছু নিয়ে ডিপ্রেশনে থাকলে। অবশ্য আমি এখনও ডিপ্রেশন এ আছি। কেন আছি জানি না। শুধু মনে হয় বের হতে পারব না।

৩. সমস্যাটি কবে থেকে এবং কিভাবে তৈরি হয়েছে বিস্তারিত বর্ণনা করুন।

হয় আসলে ২০২২ সাল থেকে। তখন থেকে ডিপ্রেশন, একা থাকতে ভয় লাগা এবং ধর্ম নিয়েও আজেবাজে চিন্তা হয়। এরপর সেক্সুয়াল ব্যাপার গুলাও চলে আসে। মানুষদের কে নিজের ডিপ্রেশনে কথা বললে তুচ্ছ তাছিল্য করে এরপর আরও একা হয়ে যাই আমি আসলে ২০১৬ সাল থেকেই পর্ণ দেখি কিন্তু ২২ সাল এ এসে আমি addicted হয়ে যাই। আমি ছোটবেলা থেকেই এসব সেক্সুয়াল ব্যাপর নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। জানি believe হবে না কিন্তু সত্যি।

এরপর আমি নিজেই এ স্বপ্ন বানায় দেখতে থাকি নাহলে আমার ঘুম আসত না। এরপর পর্ণ দেখার পর আস্তে আস্তে আমার fantasy তৈরি হয় যা খুবই খারাপ। এমনকি মানুষ মারার মতো চিন্তা ভাবনা ও আসতে থাকে যা এখনও আছে। ঔসব সিরিজ মুভিগুলা তেও addicted হয়ে যাই।

৪. বর্তমানে কি কি কারণে সমস্যা গুলো চলছে বলে আপনার মনে হয়?

সমস্যাগুলা চলে এখনও। মনে হয় আমি এখান থেকে বের হতে পারব না বা আমি কখনও নরমাল লাইফ লিড করতে পারব না। সাধারণত যখন একা থাকি তখনই এ সমস্যাগুলো বেশি হয় বা মাঝে মধ্যে অনেক মানুষের মাঝে নিজেকে একা বোধ হলেও এসব চিন্তা আসে

৫. সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনি কি কি পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?

আমি এখন একা থাকার বিভিন্ন উপায় খুজার চেষ্টা করছি। যেমন: franz kafka বা এমন লেখকদের বই পড়ার চেষ্টা করছি যারা লাইফে একা ছিল বা এসব বিষয় লিখেছে এছাড়াও আমি asexual হওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে এতও সেক্সুয়াল চিন্তা করতে করতে আমি হাপিয়ে গেছি যার জন্য আমার এই পদক্ষেপ নেওয়া। আমি asexual মানুষদের সাথেও কথা বলার চেষ্টা করছি যে তারা কিভাবে তাদের life maintain করে। এছাড়াও আমি আগে Nexcital ঔষধ খেতাম কিন্তু কয়েকদিন ধরে বন্ধ কারণ আমার এখনও distrusted feel হয় খাওয়ার পর আরকি

৬. সর্বশেষে কাউন্সিলিং সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? আপনি সাইকোলজিকাল কাউন্সিলিং থেকে কি আশা করেন?

আমি আশা করি আমার ডিপ্রেশন কেটে যাবে। আমি এসব সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনা চলে যাবে। একা থাকার অভ্যাস টা হয়ে যাবে এবং সেক্স এসবের প্রতি ইচ্ছে ও চলে যাবে। ধর্ম নিয়ে আজেবাজে চিন্তা আসবে না

যতটুকু সম্ভব বর্নান করেছি। আমি আসলে ঠিক মতো গুছিয়ে লিখতে পারি না সেজন্য সরি।

পরামর্শ:

আপনি বলেছেন আপনার বিষন্ন লাগে। বিষন্নতা এবং বিষন্ন থাকা দুটি দুজিনিস। বিষন্নতার একটি মানসিক রোগ। কারো ভিতরে বিষন্নতা থাকলে তাকে অবশ্যই কাউন্সিলিং নিতে হয়। কারো যদি বিষন্ন লাগে তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তারা একাকীত্ব বোধ করে।একাকীত্ব বোধ কাটিয়ে ওঠা যায় সেটি আপনার দিক থেকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক বেশি সুইসাইডিয়াল চিন্তা হলে অবশ্যই একজন পেশাজীবের সাহায্য নিবেন ।  

বয়স ভেদে সেক্সুয়াল চিন্তাভাবনা কিছুটা পার্থক্য থাকে তবে সবার ভিতরে সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনা কাজ করে এটাই স্বাভাবিক। তবে যদি আপনার ভিতরে অনেক বেশি সেক্সুয়াল চিন্তাভাবনা থাকে এবং সেটি যদি আপনার ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনকে তীব্রভাবে বাধাগ্রস্ত করে তাহলে আপনাকে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। ডায়াগনোসিস করে দেখতে হবে আপনার সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনা কি ওসিডি এর জন্য হচ্ছে কিনা। যদি এমনটি হয় তাহলে একজন প্রফেশনাল সাইকোলজিস্ট বা সাইক্রিয়াটিস্ট দেখাতে পারেন। আপনার জন্য পরামর্শ হবে একটু মেডিটেশন এবং শ্বাসের ব্যায়াম নিয়মিত করা তা আপনার মানসিক দুশ্চিন্তা বা অ্যাংজাইটি কমাবে। প্রতিদিন ভালো লাগে এমন দুই একটি কাজ করতে পারেন।পাশাপাশি আপনি যেহেতু বই পড়তে পছন্দ করেন তাই বই পড়ার চর্চাটাও চালিয়ে নিতে পারেন। অনেক শুভকামনা রইল।

রাজু আকন, কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top