আমার ওসিডি আছে কিনা বা চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন আছে কি?

আসসালামু আলাইকুম

জ্বী আমার কিছু সমস্যা আপনাকে বলতে পারব? আসলে আমি জানি না যে আমার ওসিডি আছে কিনা?

বা আমার চিকিৎসার প্রয়োজন কিনা। কিন্তু সেগুলা বলার পর আমি রিমুভ করে দিব। আমার আসলে ট্রাস্ট ইস্যু আছে। যদি কিছু মনে না করেন।

প্রথমেই আমার সম্পর্কে বলি:

আমার ব্রাক ইউনিভার্সিটি তে হয়েছে কিন্তু ভর্তি হই নাই ইনশাআল্লাহ হবো। আমার এক ভাই, এক বোন। আমার ভাই আমার চেয়ে দুই বছরের বড়। বোন আমার চেয়ে ১০ বছরের বড়। আমার মা বাবা আছে৷ মা হাউসওয়াইফ আর বাবা রিটায়ের্ড ব্যাংকার। 

আমি সবার কাছেই কিছুটা neglected কারণ আমার বোন আমার চেয়ে ১০ বছরের বড়। 

counselling psychologist, raju akon ID

Maintaining factors (যার কারনে সমস্যাগুলো চলমান):

আমার বোন এর কাছে কোন কিছু শেয়ার করা যায় না কারণ সে সবসময় আমাকে কিছুটা অপছন্দ করত। বলতে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না ইত্যাদি।  আমার বোন এর সাথে সাথে আমার মাও আমাকে অনেক কথা বলত। এখন বলে যে আমার কথা শুনলেই নাকি তার রাগ লাগে। আমার ভাই আগে আমার সাথে কথা বললেও এখন আর তেমন কথা বলে

Precipitating factors (যে বিষয়গুলো সমস্যা তৈরি করে):  

আমি যখন নিজস্ব মতামত বলি তখন তারা সবাই আমার উপর ক্ষেপে যায়৷ এরপর জোড় করে তারা তাদের মতামত চাপায় দেয়। আমার বাবা সবসময় চিল্লাচিল্লি করে আমার মা এর সাথে। অকারণেই। এগুলা খুব খারাপ লাগে। আমার মা বলে আমি নাকি বাবার মতো হয়ে যাব। কিন্তু সত্যি বলতে আমি হতে চাই না। আমি বাবাকে একসময় অনেক পছন্দ করলেও এখন আর করি না৷

কেউই আমার সাথে তেমন কথা বলে না। মা তো পারলে আমাকে এভয়েড করে৷ তাই সারাদিন একলা কাটাই রুম এ। ফ্রেন্ড আছে কিন্তু আমি ডিপ্রেশন এ আছি শুনলে ওরা এরপর কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করে না। খুব কম ফ্রেন্ড  আছে আমার। কাউকে কিছু বলতেও পারি না।

আমারই নক করা লাগে কেউ নক করে না

History/Predisposing factors (বর্তমান সমস্যা গুলো যেখান থেকে বা যেভাবে তৈরি হয়েছে): 

আমার প্রথম সমস্যা ধরা পরে ২০২২ সালের জুন এর দিকে। আমি তখন কলেজ এর ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট।  তো আমার প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় একটা বিষয় ফেল আসে। আমি এটা কোনভাবেই নিতে পারছিলাম না। আমি সারাদিন কান্না করতাম, আর একা থাকতে পারতাম না। একা থাকতে আমার ভয় করত। তো আমি তখন রাতের বেলা ঘুমাতাম না। কাউকে বলতেও পারতাম না বিষয় টা। 

এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর হুট করে খেয়াল করলাম আমার ধর্ম মানতে সমস্যা হচ্ছে।  ইসলাম ধর্ম আরকি। তো আমার মনের মধ্যে খুব খারাপ চিন্তা আসছে, অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।  খ্রিষ্টানিক বিষয় গুলা আসতেছে কেন জানি না। আমার এমন অবস্থা হয়ে গিয়েছিল যেন আমি সুইসাইড করি। 

এরপর কয়েকদিন একটু নামাজ থেকে বিরত ছিলাম। এর মধ্যে আনার চাচা মারা যায়। মৃত্যু ভয় চলে আসে। আমার পরিবার আমাকে উনার লাশ জোড় পূর্বক দেখায় যার কারণে আমার দুই রাত ঘুম হয় নাই, নামাজ পরার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু হাত পা কাঁপছিল। 

এখন আমার ফাইনাল টার্ম চলে আসে। পড়তে বসলেই মাথায় যন্ত্রনা হত কিন্তু চেষ্টা করে পড়তাম। অনেক ভয় আর প্যানিক হত যে কি হচ্ছে। তো এভাবে আমি ফাইনাল টার্ম পাশ করি। 

কিন্তু তখন আমার মধ্যে একটা বাজে জিনিস চলে আসে। তা হচ্ছে সেক্সুয়াল থট বা চিন্তা।   আমি ২০১৬ সাল থেকে পর্ন দেখি। আমি বলা চলে পর্ন এডিক্টেট।

তো ঔ সময় মানে ফাইনাল এক্সাম দেওয়ার পর এটা বেড়ে যায়। আর আমি তখন সিরিয়াল কিলার দের জীবনী পড়তাম। আর আমার কাছে বিষয় টা অনেক নরমাল লাগত। আমার মধ্যে  ফ্যান্টাসি তৈরি হতে থাকে। 

এরপর আরেকটা ফ্যান্টাসি তৈরি হয় আর তা হল সমকামীতার প্রতি একটা আর্কষন তৈরি হয়। না ছেলেদের প্রতিও আমার ফিলিংস আছে কিন্তু মেয়েদের প্রতিও তৈরি হতে থাকে। তাই আমি ফেসবুক এ ফেইক একাউন্ট খুলে মেয়েদের নক দেই যারা ইন্টারেস্টেড। কিন্তু বেশিরভাগ ই ছেলে। তো এমন ঘাতকতার প্রমাণ পেয়ে আমার কষ্ট লাগে। এরপর আমি একটা মেয়ে পেয়েও কন্টিনিউ করি নাই কারণ আমি কোন রিলেশনশিপ একদিনই ভাল লাগে পরের দিন আর ভাল লাগে না। এমন অনেক ছেলেদের সাথেও করছি কিন্তু সব ভার্চুয়াল। তো আমার যখন বোধ হয় আমি কতটা নোংরা কাজ করতেছি আমি ডিপ্রেশনে চলে যাই। 

এরপর জুন জুলাই এর দিকে ঠিক হই কিন্তু বুঝতে পারি আমার ট্রাস্ট ইসু্য আছে। আমি এইচএসসির আগ পর্যন্ত ঠিক থাকি। নামাজ পড়ি। কিন্তু এইচএসসি এর পর আমি সারাদিন বাসায় কাটাতাম আমার রুম এ একলা। তো তখন আমার সেই চিন্তাগুলা আবার চলে আসে, নামাজ পড়তেও প্রবলেম হচ্ছিল, সুইসাইড করার চেষ্টা করি। করতে পারি নাই কারণ গিট্টু লাগাতে পারছিলাম না। এরপর ইচ্ছা জাগে ছাদ থেকে লাফ দিব

তো তখন আমার ফ্রেন্ড একটা ঔষধ এর নাম বলে Nexcital 5 mg।  ঔটা কিনে খাই। প্রথম দিকে কাজ করলেও এরপর আমার আর কাজ করে না। 

আমি কোন কিছু সহজ ভাবে নিতে পারি না। কান্না করি আর প্যানিক করি। তো ঔষধ টা একমাস এর মতো খাইতে পারি নাই কিন্তু তখন আমার সেক্সুয়াল থট অনেক বেড়ে গেছিল। আমি তখন মেয়ে ছেলে যাই হক নক দিতাম বাজে ফ্যান্টাসি তৈরি হইতে থাকে, পর্ন দেখি এরপর যখন রিয়েলাইজ হয় আমি ডিপ্রেশনে চলে যাই। 

এরপর এইচএসসি রেজাল্ট দেয়। আমি ভাল মার্কস পাই৷ তো এরপর আসে ব্রাক এ এক্সাম। তো ব্রাক এ এক্সাম কেন দেওয়া লাগবে সেজন্য আবার কান্নাকাটি শুরু করি, নামাজ পড়তেও প্রবলেম হচ্ছিল ঔ একি প্রবলেম। এরপর ভাবি ঔষধ টা কিনি। ঔষধ কিনার পর তিনদিন কাজ করছিল। তিনদিন এর মধ্যেই আমার এক্সাম টা হয়। এক্সাম দেওয়ার পর আর ঔষধ কাজ করতেছিল না। এরপর ফ্রেন্ড বলে দুইটা করে খাইতে আমি খাই কিন্তু মাথার মধ্যে কেমন disturbness কাজ করে। যেন এগুলা আটকিয়ে আছে

এরপর যখন কাজ শেষ হয় আমার বাজে চিন্তা যেন সব বের হয়ে আসে। দুইদিন হল আমি খাওয়া বন্ধ রেখেছি।

ওসিডির লক্ষণ: 

আমার এম্নেই কোন কিছু ২০ বার চেক করা লাগে। মনে হচ্ছে আমি ভুল কিন্তু ঠিকই আছে তাও ২/৩ বার চেক করি।

ফ্যামেলিকে সহ্যই হয় না মাঝে মধ্যে। আর হচ্ছে আমি কোন কিছু ঠিক না থাকলে ঔটা নিয়ে মন খচখচ করে। যেমন বাটি টা ঔভাবে রাখতে হবে। আর সুপ কেউ খাইলে যে আওয়াজ হয় নিতেই পারি না বা কাপড় এ কোন দাগ পড়লে মন খচ খচ করে।

আমার ফ্যান্টাসি গুলার মধ্যে এর সমকামী ভাবনা আর  cannabilism থোটও আসছিল পরে ঠিক হয় কিন্তু এখনও আসে।। কিন্তু আটকানোর চেষ্টা করি

ধর্মের কোন ভিডিও আসলে বা অন্য ধর্মের কোনও রিলস আসলে আমি সরায় ফেলি দেখি না

এখন এসব সমস্যা কি আমার এটেনশন সিকিং এর জন্য হচ্ছে নাকি এগুলা আসলেই সমস্যা। আমার ফ্যামেলি সবসময় এটেনশন সিকার বলে তো আমাকে তাই আমার নিজেকে তাই মনে হয়

আমার বিয়ের প্রতি তেমন ইচ্ছে জাগে না। আমার ইচ্ছে হয় সারাজীবন একা কাটিয়ে দিতে কারণ আমি এসব সামলাতে পারব না। কিন্তু আমার সেক্সুয়াল থট এর কারনে আমার বাজে চিন্তা আসে, বিড়াল এমনকি বাচ্চা ও বাদ যায় না মাঝে মধ্যে এই চিন্তাগুলাতে।

আপনার পড়া হয়ে গেলে প্লিজ বইলেন আর আমার কোনও চিকিৎসার দরকার কিনা প্লিজ বইলেন। আমি ডিপ্রেশনে থেকে বের হতে পারছি না।

আমার মনে হচ্ছে আমি কোনদিনও নরমাল মানুষদের মতো লাইফ লিড করতে পারব না। (এই ধারণার জন্য সাইকোএডুকেশন লাগবে যা একজন কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট বা সাইক্রিয়াটিস্ট দিয়ে থাকবেন)

আপনার পড়া হলে আমি রিমুভ করে দিব এগুলা- (এটা ভুল ধারণা এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে, আপনাকে প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট নিতে হবে, মনের সমস্যাও শারীরিক সমস্যার মতোই। তাই এটাকে লুকিয়ে রাখা ঠিক হবে না বরং সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে) 

আমি একলা থাকা শিখতে চাই কিন্তু কেন পারি না। আমি আজীবন একলা থেকে ভাল থাকতে চাই (এর জন্য আপনার অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে কাউন্সিলিং নিতে হবে এবং কাউন্সিলর প্রয়োজন বোধ করলে সাইক্র্যাটিস্ট এর কাছ থেকে ওষুধের চিকিৎসাও নেয়া লাগতে পারে) 

যারা এই পোস্টটি করবেন তারা দেখতে পারবেন এখানে কিছু ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করা আছে সঠিক ট্রিটমেন্টের জন্য এই ফ্যাক্টর গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। একজন প্রফেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট সঠিকভাবে চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করে সাইকোথেরাপি দিয়ে থাকবেন। সাথে সাথে একটি জিনিস মনে রাখবেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top