নার্ভ শুকিয়ে যায় কেন

নার্ভ বা স্নায়ু শুকিয়ে যাওয়ার ধারণাটি সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষতি বা সমস্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। নার্ভ শুকিয়ে গেলে এটি সাধারণত বিভিন্ন সমস্যার ফলাফল হতে পারে এবং এটি স্নায়ু দুর্বলতা, স্নায়ুতন্ত্রের বিকৃতি বা নার্ভের ফাংশন কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। নিম্নলিখিত কারণগুলো নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে:

নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ:

  1. ডায়াবেটিস:
    • দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস নার্ভ ড্যামেজের কারণ হতে পারে। এটি স্নায়ুগুলিকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সংবেদনশীলতা কমায়।
  2. ভিটামিন বি১২ এর অভাব:
    • ভিটামিন বি১২ নার্ভের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে নার্ভে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নার্ভের ফাংশন শুকিয়ে যেতে পারে।
  3. আঘাত বা চাপ:
    • কোন আঘাত বা নার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে নার্ভের সঠিক কাজ করতে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে নার্ভ শুকিয়ে যেতে পারে।
  4. অটোইমিউন রোগ:
    • কিছু অটোইমিউন রোগ যেমন গুইলিয়ান-বারে সিনড্রোম বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এসব রোগে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই নার্ভগুলোর ক্ষতি করতে পারে।
  5. রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা:
    • সঠিক রক্ত সঞ্চালন না হলে নার্ভে পুষ্টি ও অক্সিজেনের ঘাটতি হতে পারে, যা নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
  6. অ্যালকোহল বা ড্রাগের প্রভাব:
    • অতিরিক্ত মদ্যপান বা নির্দিষ্ট ড্রাগের ব্যবহার স্নায়ু সিস্টেমে ক্ষতি করতে পারে, যা নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
  7. টক্সিনের সংস্পর্শ:
    • কিছু বিষাক্ত পদার্থ যেমন সীসা বা পারদের সংস্পর্শে আসা স্নায়ু শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

      raju akon youtube channel subscribtion

লক্ষণ:

  • হাত-পায়ে অবশ অনুভব করা।
  • তীব্র ব্যথা বা স্নায়ুতে জ্বালাপোড়া অনুভব।
  • পেশী দুর্বলতা।
  • চলাচলে সমস্যা।

প্রতিকার ও করণীয়:

  • ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট: ভিটামিন বি১২ এর অভাব থাকলে তা পূরণ করতে সাপ্লিমেন্ট নেয়া উচিত।
  • রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।
  • ফিজিওথেরাপি: স্নায়ুর কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের জন্য ফিজিওথেরাপি করা যেতে পারে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ: নার্ভের সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নার্ভ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি সাধারণত স্নায়ুতে কোনও ধরনের আঘাত, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে উদ্ভূত হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top