৪ বছরের বাচ্চাদের পেটে ব্যথা হওয়া সাধারণ সমস্যা হলেও এটি কখনো কখনো অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। পেটের ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন গ্যাস্ট্রিক, হজমের সমস্যা, খাবারজনিত অ্যালার্জি, ইনফেকশন, অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা। নীচে ৪ বছরের বাচ্চাদের পেটে ব্যথা হলে কী কী করণীয় তা আলোচনা করা হলো:
পেট ব্যথার কারণ:
- গ্যাস্ট্রিক সমস্যা: বেশি খাবার খাওয়া বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার কারণে গ্যাস্ট্রিক হতে পারে।
- হজমের সমস্যা: খাবার ভালোভাবে হজম না হলে পেটে ব্যথা হতে পারে।
- কৃমি: কৃমি হলে পেটে ব্যথা হতে পারে।
- ইনফেকশন: কোনোরকম পেটের ইনফেকশন (যেমন গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস) থেকে পেট ব্যথা হতে পারে।
- ফুড অ্যালার্জি: কিছু খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকলে পেটে ব্যথা হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য: পর্যাপ্ত পানি ও ফাইবারযুক্ত খাবার না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে পেট ব্যথা হতে পারে।
- স্ট্রেস: মানসিক চাপ বা কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তার কারণে বাচ্চাদের মাঝে পেটের ব্যথা দেখা দিতে পারে।
করণীয়:
- বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পানি পান করান: পেট ব্যথা হলে প্রথমে বাচ্চাকে বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে, যেন শরীরে পানির ঘাটতি না হয়।
- খাবারের প্রতি মনোযোগ দিন: বাচ্চাকে সহজপাচ্য খাবার খাওয়ান, যেমন খিচুড়ি, ভাত বা স্যুপ। পেটে ব্যথার সময় মশলাদার বা তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
- কোষ্ঠকাঠিন্য হলে: যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তবে বাচ্চাকে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন সবজি, ফলমূল, এবং প্রচুর পানি দিন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করতে পারেন।
- পেট ম্যাসাজ: বাচ্চার পেটে হালকা গরম পানির ব্যাগ বা কাপড় দিয়ে সেঁক দিন। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- গ্যাসের সমস্যা হলে: গ্যাসের কারণে ব্যথা হলে বাচ্চাকে হালকা খাদ্য দেওয়া উচিত এবং ভোলভেরিন বা জিরা পানির মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ইনফেকশন হলে: যদি বমি, ডায়রিয়া বা জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে এটি ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- মেডিসিন: পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে কোনো ব্যথানাশক ঔষধ না দেওয়াই ভালো। কৃমির জন্য নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো দরকার হতে পারে।
- ফুড অ্যালার্জি পরীক্ষা করা: যদি কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা দেখা দেয়, তবে ফুড অ্যালার্জির সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে খাবারের প্রতি মনোযোগ দিন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে:
- যদি পেটের ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বাচ্চা ক্রমাগত কষ্ট পায়।
- বাচ্চার সাথে জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া থাকে।
- বাচ্চার পেটে তীব্র ব্যথা হয় এবং তাকে কিছুতেই শান্ত করা যায় না।
বাচ্চাদের পেটে ব্যথা সাধারণত তেমন জটিল কিছু না হলেও, কখনো কখনো এটি বড় কোনো সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘরে বসে সঠিক খাদ্য ও যত্নের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পেটের ব্যথা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।