জ্বর সাধারণত শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাড়া হিসেবে দেখা দেয়, তবে অতিরিক্ত জ্বর হলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত জ্বর বলতে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪°F (৪০°C) বা তার বেশি বোঝায়। এটি তখন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত জ্বর কমানোর উপায়:
- প্রচুর পানি পান:
- শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জ্বরের সময় শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়, তাই প্রচুর পানি পান করা উচিত। এছাড়া ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয়ও পান করতে পারেন (যেমন: ওরস্যালাইন)।
- বরফ বা ঠাণ্ডা পানির সেক:
- ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে কপালে এবং শরীরে ব্যবহার করুন। গরম শরীরকে ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করবে।
- গরমে আক্রান্ত হলে বরফের সেকও দিতে পারেন, তবে কখনোই সরাসরি বরফ ব্যবহার করবেন না। পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে ব্যবহার করুন।
- গোসল করা:
- হালকা গরম বা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
- বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন:
- জ্বরের সময় শীতল পরিবেশে থাকা জরুরি। ঘরটিকে সঠিকভাবে বায়ু চলাচল করাতে হবে এবং বেশি কাপড় বা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখবেন না।
- স্বল্প পোশাক পরিধান:
- শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হালকা, পাতলা এবং সুতির পোশাক পরা উচিত। অতিরিক্ত গরম কাপড় এড়িয়ে চলুন।
- প্যারাসিটামল বা ওষুধ গ্রহণ:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফেন বা জ্বর কমানোর ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। এ ধরনের ওষুধ দ্রুত জ্বর কমাতে সহায়ক।
- বিশ্রাম:
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি যখন:
- জ্বর ৩ দিন বা তার বেশি সময় ধরে থাকে।
- জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরা, অচেতনতা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়।
- শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত জ্বর হয়।
জ্বর প্রতিরোধে করণীয়:
- রোগের সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান