অনেকেই মনে করেন, কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করলে মেয়ে সন্তান লাভ করা সম্ভব। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো পদ্ধতি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি যা নির্দিষ্টভাবে মেয়ে সন্তান লাভে সহায়ক। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল, এবং এটি পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তবুও, কিছু প্রাকৃতিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যা মেয়ে সন্তান লাভে সহায়ক হতে পারে।
মেয়ে সন্তান লাভের সম্ভাব্য কৌশল:
- শেতলস পদ্ধতি (Shettles Method): এই পদ্ধতি অনুযায়ী, মেয়েদের শুক্রাণু (X ক্রোমোজোম বহনকারী) Y ক্রোমোজোমের চেয়ে ধীরগতিতে চলে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকে। তাই, যদি ডিম্বপাতের আগে যৌনমিলন করা হয়, তবে মেয়ে সন্তান লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- পুষ্টিকর খাবার: কিছু গবেষণা মতে, পুষ্টিকর এবং উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খেলে মেয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন: দুধ, দই, সবুজ শাকসবজি।
- যৌনমিলনের সময় নির্ধারণ: ধারণা করা হয়, ডিম্বপাতের ২-৩ দিন আগে যৌনমিলন করলে মেয়ে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, কারণ X ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণু দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে।
- আলকাইন খাবার: কিছু বিশেষজ্ঞরা বলেন, আলকাইন খাবার বেশি খেলে মেয়ে সন্তানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আলকাইন খাবার যেমন: শাকসবজি, বাদাম, কলা ইত্যাদি।
- পিএইচ নিয়ন্ত্রণ: মেয়ে সন্তান লাভে নারীর পিএইচ মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। যারা মেয়ে সন্তান চান, তারা শরীরের পিএইচ লেভেল বাড়াতে পারেন, যাতে X ক্রোমোজোমের শুক্রাণু বেশি সক্রিয় থাকে।
বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা:
এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা নিশ্চিতভাবে মেয়ে সন্তান লাভের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা কৌশল নির্দেশ করে। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রধানত পুরুষের শুক্রাণুর ওপর নির্ভরশীল, কারণ শুক্রাণুর X বা Y ক্রোমোজোম ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
মেয়ে সন্তান লাভের চেষ্টা করা বা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা শুধুমাত্র অনুমাননির্ভর কৌশল হতে পারে। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে ভালো, কারণ সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রতিটি সন্তানই ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং সমানভাবে মূল্যবান। তাই, সন্তান ধারণের সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।