বাচ্চাদের কত বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো যায়?

বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সুপারিশ অনুযায়ী, বাচ্চাদের অন্ততপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত এক্সক্লুসিভলি (এককভাবে) বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত এবং তারপর পরিপূরক খাবার যোগ করে ২ বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়কাল:

  1. প্রথম ৬ মাস: শুধু মাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এই সময়ে কোনো অতিরিক্ত পানি বা খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ মায়ের দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান থাকে।
  2. ৬ মাসের পর: শিশুর বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি নরম ও পুষ্টিকর খাবার যোগ করা উচিত, যেমন— ফলের পিউরি, ডাল, সবজি, খিচুড়ি ইত্যাদি।
  3. ২ বছর বা তার বেশি সময়: মায়ের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন বজায় রাখা হয়। মায়ের দুধে এমন অনেক উপাদান থাকে যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক।

    raju akon youtube channel subscribtion

বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা:

  • শিশুর ইমিউন সিস্টেম মজবুত হয়।
  • সংক্রমণ ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
  • মানসিক বন্ধন শক্তিশালী করে, কারণ মায়ের দুধের সময় মা-শিশুর সংযোগ গড়ে ওঠে।
  • বাচ্চার বুদ্ধিমত্তা ও মনোযোগ ক্ষমতা উন্নত হয়।
  • মায়ের জন্যও বুকের দুধ খাওয়ানো ওজন কমাতে সহায়ক এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

করণীয়:

  • জন্মের পরপরই শিশু যেন বুকের দুধ পায়, তা নিশ্চিত করা।
  • প্রয়োজনীয় অবস্থায় শিশুদের বুকের দুধ ছাড়াও পরিপূরক খাবার সরবরাহ করা।
  • বুকের দুধ খাওয়ানো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জনের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top