গর্ভাবস্থার অষ্টম মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসময় শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং সে জন্মের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। অনেক মা জানতে চান, ৮ মাসের গর্ভের বাচ্চার ওজন কত হওয়া উচিত এবং কীভাবে এটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই ব্লগ পোস্টে আমরা আলোচনা করবো ৮ মাসে শিশুর গড় ওজন, ওজন বাড়ানোর উপায় এবং কীভাবে মায়ের যত্ন নিতে হবে।
৮ মাসের গর্ভবতী বাচ্চার গড় ওজন কত?
গড় হিসাবে, ৮ মাসে (৩২-৩৫ সপ্তাহে) শিশুর ওজন প্রায় ১.৮-২.৫ কেজি (১৮০০-২৫০০ গ্রাম) হয় এবং তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪২-৪৭ সেন্টিমিটার হতে পারে। তবে কিছু ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক।
গর্ভকাল (সপ্তাহ) | গড় ওজন (গ্রাম) | গড় দৈর্ঘ্য (সেমি) |
৩২ সপ্তাহ | ১৮০০-২১০০ গ্রাম | ৪২ সেমি |
৩৩ সপ্তাহ | ২০০০-২৩০০ গ্রাম | ৪৩.৭ সেমি |
৩৪ সপ্তাহ | ২২০০-২৫০০ গ্রাম | ৪৫ সেমি |
৩৫ সপ্তাহ | ২৪০০-২৭০০ গ্রাম | ৪৭ সেমি |
৮ মাসে শিশুর ওজন বাড়ানোর জন্য করণীয়
যদি চিকিৎসক মনে করেন যে শিশুর ওজন কম বা আরও বৃদ্ধি করা দরকার, তবে কিছু বিশেষ খাবার ও অভ্যাস মেনে চলা উচিত।
১. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
- প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, দুধ, ডাল
- কার্বোহাইড্রেট: ভাত, রুটি, ওটস
- ফলমূল ও সবজি: কলা, আপেল, গাজর, কুমড়ো
- চর্বি ও স্বাস্থ্যকর তেল: বাদাম, অলিভ অয়েল, নারকেল তেল
২. বেশি পানি পান করুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করলে আমাশয় ও রক্তসঞ্চালন ভালো থাকে, যা শিশুর ওজন বাড়াতে সহায়ক।
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
- রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত এবং দিনের বেলায় ৩০ মিনিটের বিশ্রাম নিলে শিশুর বৃদ্ধি ভালো হয়।
৪. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন
- গর্ভবতীদের জন্য উপযুক্ত যোগব্যায়াম ও হাঁটা শিশুর বৃদ্ধি ও সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে সহায়ক।
৫. নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
- শিশুর বৃদ্ধি ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সপ্তাহে অন্তত একবার চিকিৎসকের চেকআপ করা উচিত।
শিশুর ওজন বেশি হলে কী করবেন?
কখনো কখনো শিশুর ওজন গড়ের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই ক্ষেত্রে—
- চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত
- চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়েট কন্ট্রোল করতে হবে
- হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে, যদি চিকিৎসক অনুমতি দেন
উপসংহার
গর্ভাবস্থার ৮ মাসে শিশুর ওজন সাধারণত ১.৮-২.৫ কেজির মধ্যে থাকে, তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। শিশুর ওজন বাড়াতে হলে সঠিক খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। শিশুর ওজন যদি বেশি বা কম হয়, তবে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত।