হাঁপানি বা অ্যাজমা একটি শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা শ্বাসনালির প্রদাহ এবং সংকোচনের কারণে ঘটে। এটি শ্বাসকষ্ট, কাশি, এবং বুকে চাপ অনুভব করায়। হাঁপানি প্রায়শই অ্যালার্জির সাথে সম্পর্কিত, তবে অন্যান্য কারণেও এটি হতে পারে। হাঁপানি অনেক সময় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং জীবনধারণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে।
হাঁপানির কারণ
হাঁপানির প্রধান কারণ হলো শ্বাসনালির সংকোচন এবং প্রদাহ। কিছু সাধারণ কারণ হলো:
- অ্যালার্জি: ধুলা, ফুলের রেণু, পশুর লোম, ধোঁয়া ইত্যাদির কারণে অ্যালার্জির প্রভাব বাড়ে, যা শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- পরিবেশগত ফ্যাক্টর: বায়ু দূষণ, ধোঁয়া, এবং তীব্র গন্ধ হাঁপানির কারণ হতে পারে।
- প্রশ্বাসে সংক্রমণ: ঠান্ডা, ফ্লু, বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হাঁপানির উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
- শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম হাঁপানির কারণ হতে পারে, বিশেষত যদি ঠান্ডা বাতাসে কাজ করতে হয়।
- আবহাওয়ার পরিবর্তন: হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশেষত ঠান্ডা বা আর্দ্রতা হাঁপানির উপসর্গকে বাড়িয়ে দেয়।
হাঁপানির লক্ষণ
হাঁপানির লক্ষণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো শ্বাসকষ্ট। তবে হাঁপানির আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা শনাক্ত করতে পারলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব:
১. শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath)
হাঁপানির সবচেয়ে প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট। হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই গভীরভাবে শ্বাস নিতে অসুবিধা অনুভব করে। এতে করে শ্বাস নিতে গিয়ে কষ্ট হয় এবং শ্বাস নিতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।
২. বুকের চাপ বা টান (Chest Tightness)
হাঁপানির সময় বুকে চাপ বা টান অনুভব হয়, যা শ্বাস নিতে আরও কঠিন করে তোলে।
৩. শ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দ (Wheezing)
হাঁপানির অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাস নেওয়ার সময় শ্বাসনালির সংকোচনের কারণে সাঁ সাঁ শব্দ হয়। এই শব্দটি সাধারণত শ্বাস বের করার সময় বেশি শোনা যায়।
৪. হাঁচি ও কাশি (Coughing)
হাঁপানির একটি বড় লক্ষণ হলো বারবার কাশি হওয়া। বিশেষত রাতে বা ভোরবেলা কাশি বেড়ে যায়।
৫. প্রচণ্ড শ্বাসনালী সংকোচন (Severe Bronchoconstriction)
হাঁপানির তীব্র আক্রমণে শ্বাসনালী সংকোচিত হয়ে যায়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সম্পূর্ণ বন্ধ বা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এমন অবস্থায় তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা নিতে হবে।
হাঁপানির প্রতিকার
হাঁপানি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব না হলেও, সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এখানে হাঁপানির প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো:
১. ইনহেলার ব্যবহার করুন
হাঁপানির চিকিৎসার সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো ইনহেলার ব্যবহার করা। চিকিৎসকরা হাঁপানির রোগীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইনহেলার নির্ধারণ করেন, যা শ্বাসনালীকে খুলে শ্বাস নিতে সাহায্য করে।
২. অ্যালার্জির প্রতিকার
অ্যালার্জির কারণে হাঁপানির উপসর্গ বাড়তে পারে, তাই অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি। ধুলো, ফুলের রেণু, পশুর লোম, এবং ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
৩. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের ব্যায়াম
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের ব্যায়াম হাঁপানির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করার মাধ্যমে শ্বাসনালির সংকোচন কমিয়ে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।
৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হাইড্রেশন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হাইড্রেটেড থাকা হাঁপানির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীর সুস্থ থাকলে শ্বাসনালির সংক্রমণও কম হয়।
৫. ধূমপান থেকে বিরত থাকুন
ধূমপান হাঁপানির উপসর্গ বাড়ায়, তাই ধূমপান বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।
হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ হলেও সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হাঁপানির লক্ষণগুলো শুরুতেই চিনে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলার ব্যবহার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ঠিকানা:
পাইনেল মেন্টাল হেলথ কেয়ার সেন্টার, ২২২/১বি, সাউথ পীরেরবাগ, মিরপুর-২, ঢাকা -১২১৬।