গর্ভাবস্থায় ছেলে বা মেয়ে সন্তান হওয়ার বিষয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা এবং বিশ্বাস রয়েছে, তবে বৈজ্ঞানিকভাবে নির্দিষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে ছেলে বা মেয়ে সন্তান হবে তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে কিছু প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ উল্লেখ করা হলো:
প্রচলিত লক্ষণসমূহ (লোকবিশ্বাস অনুযায়ী):
- পেটের আকার ও অবস্থান:
- যদি পেট নিচের দিকে থাকে বা তলপেটে বেশি দেখা যায়, তবে অনেকে মনে করেন এটি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ।
- মায়ের ত্বকের অবস্থা:
- লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, গর্ভবতী মায়ের ত্বক যদি উজ্জ্বল থাকে এবং ব্রণ না হয়, তবে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন:
- যদি মায়ের বেশি লবণাক্ত, ঝাল বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকে, তবে অনেকেই মনে করেন এটি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ।
- হৃদস্পন্দনের হার:
- অনেকে মনে করেন, যদি বাচ্চার হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪০ এর কম থাকে, তবে এটি ছেলে সন্তান হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- ওজন বৃদ্ধি:
- যদি মায়ের ওজন শুধুমাত্র পেটের দিকে বাড়ে এবং শরীরের অন্য অংশে খুব বেশি পরিবর্তন না হয়, তবে অনেকেই মনে করেন ছেলে সন্তান হবে।
- পায়ের তাপমাত্রা:
- মায়ের পা যদি ঠাণ্ডা থাকে বা পায়ের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, তবে অনেকে মনে করেন এটি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ।
- মর্নিং সিকনেস কম হওয়া:
বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা:
গর্ভাবস্থায় ছেলে বা মেয়ে সন্তান নির্ধারণ শুধুমাত্র আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিকভাবে জানা যায়। এসব লোকবিশ্বাসের ভিত্তিতে ছেলে সন্তান হবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে আল্ট্রাসাউন্ড এবং তা নির্দিষ্ট সময় পরেই করা হয়।
যদিও গর্ভাবস্থায় ছেলে সন্তান হওয়ার কিছু প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এই লক্ষণগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। সঠিকভাবে বাচ্চার লিঙ্গ জানতে আল্ট্রাসাউন্ডের ওপর নির্ভর করাই সঠিক পদ্ধতি। ছেলে হোক বা মেয়ে, প্রতিটি সন্তানই সমানভাবে মূল্যবান ও আশীর্বাদ।