তলপেট বেড়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে পেটের আকার বৃদ্ধি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ রয়েছে। তলপেট বেড়ে যাওয়ার মূল কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. অতিরিক্ত গ্যাস:
পেটে গ্যাস জমে যাওয়ার কারণে তলপেট ফোলা এবং বেড়ে যেতে পারে। এটি সাধারণত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়। অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত খাবার, কার্বোনেটেড পানীয় এবং বায়ু গিলে খাওয়া থেকে এই সমস্যা হতে পারে।
২. বদহজম:
খাদ্য সঠিকভাবে হজম না হলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে এবং এর ফলে তলপেট ফোলা দেখা যায়। বদহজমের কারণে পেটের আকার বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. মেদ বৃদ্ধি:
অতিরিক্ত চর্বি বা মেদের কারণে তলপেটে চর্বি জমে যেতে পারে, যা পেটের আকার বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অনুশীলনের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ফলে এই সমস্যা হয়।
৪. প্রেগন্যান্সি:
গর্ভাবস্থার প্রথম দিক থেকে তলপেটের আকার বৃদ্ধি হতে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যেখানে শিশুর বিকাশের জন্য পেটের আকার ধীরে ধীরে বাড়ে।
৫. ওভারিয়ান সিস্ট বা ফাইব্রয়েড:
মেয়েদের মধ্যে ওভারিয়ান সিস্ট বা জরায়ুর ফাইব্রয়েডের কারণে পেটে ব্যথা ও তলপেটের আকার বৃদ্ধি হতে পারে। এগুলো স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৬. পানিশূন্যতা (বডি ফ্লুইড রিটেনশন):
শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে তলপেট ফোলা দেখা দেয়। এটি কিডনি বা হৃদরোগের কারণেও হতে পারে।
৭. কোষ্ঠকাঠিন্য:
যদি নিয়মিত মলত্যাগ না হয় বা মল শক্ত হয়ে যায়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে তলপেট বেড়ে যেতে পারে। এটি খাদ্যাভ্যাসে অপর্যাপ্ত ফাইবার বা পানি গ্রহণের কারণে হতে পারে।
৮. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা:
মহিলাদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন (যেমন মেনোপজ বা মাসিকের সময়) পেটে চর্বি জমা করার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এটি তলপেটের আকার বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।
৯. পাকস্থলীর ইনফেকশন বা প্রদাহ:
কিছু ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ পেটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে তলপেট বেড়ে যেতে পারে। পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, বা ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে।
১০. লিভার বা কিডনি সমস্যা:
যদি লিভার বা কিডনিতে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে শরীরে পানি জমা হতে পারে, যা তলপেট ফোলানোর অন্যতম কারণ।
তলপেট বেড়ে যাওয়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে এবং এটি প্রায়শই সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। তবে যদি পেটের আকার বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ব্যথার সঙ্গে থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।