জিংক বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সেল বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক একটি প্রয়োজনীয় খনিজ। জিংকের ঘাটতি হলে বাচ্চাদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই বাচ্চাদের খাদ্যতালিকায় জিংক সমৃদ্ধ খাবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
জিংক সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা:
- মাংস: লাল মাংস যেমন গরুর মাংস ও খাসির মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে।
- মাছ: মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ, জিংকের ভালো উৎস।
- ডিম: ডিমের কুসুমে জিংক থাকে, যা বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে।
- ডাল ও শিম: মুগ, মসুর, এবং ছোলা শিম জাতীয় খাবার জিংকের চমৎকার উৎস।
- বাদাম: বাদাম ও বীজ, বিশেষ করে কাজু বাদাম এবং সাদা তিল, জিংকের একটি ভালো উৎস।
- দুগ্ধজাত পণ্য: দুধ, পনির, এবং দই বাচ্চাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিংক সরবরাহ করে।
- শাক-সবজি: পালং শাক ও মেথি শাকে কিছু পরিমাণে জিংক থাকে।
- চিকেন: বিশেষ করে চিকেনের ডার্ক মিট বা উরুর অংশে প্রচুর জিংক রয়েছে।
- মাশরুম: মাশরুমে জিংকের উপাদান বিদ্যমান, যা বাচ্চাদের বিকাশে সহায়ক।

বাচ্চাদের জন্য জিংকের উপকারিতা:
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
- হাড়ের বৃদ্ধি ও মজবুতকরণ
- ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া দ্রুত করা
- মানসিক এবং শারীরিক বৃদ্ধি ঠিক রাখা
- স্বাভাবিক স্নায়বিক কাজ বজায় রাখা
জিংক গ্রহণের পরিমাণ:
বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ জিংক প্রয়োজন। সাধারণত, ১-৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের প্রতিদিন ৩-৫ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন।
সতর্কতা: অতিরিক্ত জিংক গ্রহণ করলে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো উচিত।