হার্ট ব্লক হওয়ার কারণ

হার্ট ব্লক (Heart Block) একটি হৃদরোগ, যেখানে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতগুলি সঠিকভাবে হৃদয়ের মাধ্যমে ছড়াতে ব্যর্থ হয়। ফলে হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয় না, এবং এটি রক্ত সঞ্চালনকে বাধা দিতে পারে। হার্ট ব্লক তিনটি ধাপে বিভক্ত, যার মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে এর তীব্রতা ভিন্ন হয়। এই সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।

হার্ট ব্লক হওয়ার সাধারণ কারণগুলো:

  1. হৃদযন্ত্রের টিস্যুর ক্ষতি: হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি আর্টারি রোগের কারণে হার্টের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  2. জন্মগত কারণ (Congenital Heart Block): কিছু মানুষ জন্মগতভাবে হার্ট ব্লক নিয়ে জন্মাতে পারে। এটি সাধারণত মায়ের থেকে সন্তানে ট্রান্সফার হওয়া সংক্রমণের কারণে ঘটে।
  3. বয়সজনিত কারণে: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেতের কাজ প্রভাবিত হতে পারে, যা হার্ট ব্লকের কারণ হতে পারে।
  4. হৃদরোগের চিকিৎসা: কিছু ওষুধ, যেমন বিটা-ব্লকারস, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারস এবং ডিজিটালিস হার্ট ব্লকের কারণ হতে পারে। এছাড়া পেসমেকার বা হার্ট সার্জারির সময়েও বৈদ্যুতিক পথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্লক হতে পারে।
  5. ইনফেকশন বা প্রদাহ: ইনফেকশন বা প্রদাহ যেমন রিউম্যাটিক ফিভার, লাইম রোগ, বা স্যরকোয়াইডোসিস হার্টের বৈদ্যুতিক সিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা হার্ট ব্লক তৈরি করতে পারে।
  6. ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা: পটাশিয়াম বা ক্যালসিয়ামের মত ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, যা হার্ট ব্লকের কারণ হতে পারে।
  7. মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis): হৃদযন্ত্রের প্রদাহ হার্ট ব্লকের অন্যতম কারণ। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য ইনফেকশনের কারণে হতে পারে।
  8. বংশগত কারণ: পরিবারে কারো হার্ট ব্লকের ইতিহাস থাকলে এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  9. হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোনের অভাবের কারণে হার্টের কার্যক্রমে সমস্যা হতে পারে এবং এর ফলে হার্ট ব্লক তৈরি হতে পারে।
  10. অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান: দীর্ঘমেয়াদি ধূমপান বা মদ্যপান হার্টের বৈদ্যুতিক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়ে।

    raju akon youtube channel subscribtion

হার্ট ব্লকের লক্ষণ:

  1. অতিরিক্ত ক্লান্তি
  2. হৃদযন্ত্রের গতির পরিবর্তন
  3. হঠাৎ জ্ঞান হারানো বা মাথা ঘোরা
  4. শ্বাসকষ্ট
  5. বুক ধড়ফড় করা

প্রতিকার ও চিকিৎসা:

  • পেসমেকার: অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপের হার্ট ব্লকের জন্য পেসমেকার ব্যবহার করা হয়।
  • ওষুধ: নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে হার্ট ব্লকের চিকিৎসা করা যেতে পারে।
  • স্বাস্থ্যকর জীবনধারা: ধূমপান বন্ধ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা হার্ট ব্লকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

হার্ট ব্লক হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করতে পারে। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনধারার পরিবর্তন হার্ট ব্লকের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top