আমিষ বা প্রোটিন আমাদের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি দেহের কোষ গঠন, ক্ষত নিরাময়, হরমোন তৈরি, এবং পেশী শক্তিশালীকরণের জন্য প্রয়োজনীয়। আমাদের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন থাকা সুস্থ শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক।
যেসব খাবারে বেশি আমিষ বা প্রোটিন থাকে:
- ডিম
ডিম হলো প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। একটি ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে এবং এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। - মুরগির মাংস
মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে এবং এটি সহজপাচ্য। ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে প্রায় ৩১ গ্রাম প্রোটিন থাকে। - মাছ
মাছ প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যেমন টুনা, স্যালমন এবং সারডিনে উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। - লাল মাংস (গরু ও খাসির মাংস)
লাল মাংস প্রোটিনের চমৎকার উৎস, তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে প্রায় ২৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। - ডাল
মসুর, মুগ, এবং ছোলার ডালে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রায় ৯ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। - বাদাম এবং বীজ
বাদাম যেমন কাজু, আখরোট, এবং আমন্ড, এবং বীজ যেমন চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিডে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকে। বাদাম ও বীজ প্রোটিনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর চর্বি সরবরাহ করে। - পনির
পনির বিশেষ করে কটেজ চিজ এবং চেডার চিজ প্রোটিন সমৃদ্ধ। ১০০ গ্রাম পনিরে প্রায় ১১-২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। - দই
দই, বিশেষ করে গ্রিক দই, প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এক কাপ গ্রিক দইয়ে প্রায় ১০-২০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। - সয়া প্রোডাক্ট
সয়া চাঙ্ক, সয়া দুধ এবং টফু আমিষ সমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ উৎস। ১০০ গ্রাম টফুতে প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। - মাশরুম
মাশরুম একটি কম ক্যালোরিযুক্ত ও প্রোটিন সমৃদ্ধ সবজি। এটি পেশীর গঠনে সাহায্য করে।
আমিষ বা প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এই খাবারগুলো অত্যন্ত উপকারী। সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে দেহের পেশী গঠনে, ক্ষত নিরাময়ে এবং শারীরিক উন্নতিতে সহায়ক হয়। তাই খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষ রাখা উচিত।