নাকের ভিতর ফোড়া হওয়া একটি অস্বস্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হতে পারে। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থেকে ঘটে থাকে। যদি এটি অবহেলা করা হয়, তবে ফোড়া বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
নাকের ভিতর ফোড়া হওয়ার কারণ:
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ: Staphylococcus ব্যাকটেরিয়া নাকের ভিতর সংক্রমণের প্রধান কারণ।
- নাক খোঁচানো: নখ বা অন্য কোনো বস্তুর দ্বারা নাক খোঁচানো হলে সংক্রমণ হতে পারে।
- এলার্জি বা সর্দি: এলার্জি বা সর্দির কারণে নাকের ভিতরে ফোড়া হতে পারে।
- নাকের ভেতর চুলকানি: অতিরিক্ত চুলকানো বা হাত দিয়ে নাক খোঁচালে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সংক্রমণের সৃষ্টি হতে পারে।
নাকের ভিতর ফোড়া হলে করণীয়:
- গরম পানির ভাপ:
- নাকের ভিতর ফোড়া দ্রুত নিরাময়ের জন্য গরম পানির ভাপ নেওয়া যেতে পারে। এটি ফোড়ার ব্যথা কমায় এবং দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে।
- উষ্ণ পানির সেঁক:
- একটি পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে ফোড়ার উপরে ৫-১০ মিনিট ধরে রাখতে পারেন। এটি ব্যথা উপশমে এবং ফোড়া দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে।
- অ্যান্টিসেপ্টিক মলম ব্যবহার:
- ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত অ্যান্টিসেপ্টিক মলম ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এবং ফোড়া দ্রুত নিরাময়ে কার্যকরী।
- ব্যথানাশক ওষুধ:
- ব্যথা কমানোর জন্য ডাক্তার প্রয়োজনমতো ব্যথানাশক ওষুধ নিতে পারেন।
- নাক খোঁচানো থেকে বিরত থাকুন:
- নাকের ভিতরে ফোড়া থাকলে নাক খোঁচানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- খুব বেশি নাক মোছা এড়িয়ে চলুন:
- বেশি চাপ দিয়ে নাক মোছা এড়িয়ে চলা উচিত। এটি ফোড়ার সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
- হাত ধোয়ার অভ্যাস:
- নাকের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বারবার হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হাত সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।
- ডাক্তারের পরামর্শ:
- যদি ফোড়ার আকার বৃদ্ধি পায় বা ব্যথা বেশি হয়, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন:
- ফোড়া থেকে পুঁজ বের হলে।
- ফোড়ার আকার বড় হতে থাকলে।
- ব্যথা খুব বেশি হলে।
- শরীরে জ্বর দেখা দিলে।
নাকের ভিতরে ফোড়া হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে সমস্যা বড় আকার ধারণ না করে।