নবজাতকের শ্বাসকষ্ট একটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে, এবং তাৎক্ষণিক সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক হতে পারে। নবজাতকরা সাধারণত দুর্বল শ্বাসযন্ত্র নিয়ে জন্মায়, তাই শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
নবজাতকের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ:
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া: শিশুর শ্বাস খুব ধীর বা দ্রুত হতে পারে।
- শ্বাসের সময় শব্দ: শ্বাস নিতে সময়ে শিশুর বুক বা গলা থেকে শোঁ শোঁ শব্দ আসা।
- নাকের পাখা ফোলা: শ্বাসকষ্টের সময় নাকের পাখা ফোলানো।
- হালকা বা নীলাভ ত্বক: শিশুর ত্বক বা ঠোঁট নীলাভ হয়ে যাওয়া।
- খাওয়া-দাওয়া না করতে পারা: শিশুর খাবার খেতে কষ্ট হয় বা খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
- অতিরিক্ত ঘুমানো বা ঝিমঝিমে থাকা: শিশুর শক্তি কমে যাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘুমানো।
শ্বাসকষ্ট হলে করণীয়:
- ডাক্তার বা শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ:
- নবজাতকের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিলে, দেরি না করে দ্রুত ডাক্তার বা শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
- শিশুকে সোজা করে শুইয়ে রাখুন:
- শিশুর শ্বাস নেওয়া সহজ করার জন্য শিশুকে সোজা ও সামান্য উঁচু অবস্থায় শুইয়ে রাখা যেতে পারে।
- পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন:
- শিশুর ঘরে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল থাকতে হবে। ঘর খুব গরম বা ঠান্ডা হওয়া ঠিক নয়।
- যেকোনো শ্বাসের ব্যাঘাতকারী উপাদান সরিয়ে ফেলুন:
- শিশুর আশেপাশে ধোঁয়া বা অন্য কোনো শ্বাসের ব্যাঘাতকারী উপাদান থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
- অক্সিজেন থেরাপি প্রয়োজন হলে:
- যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট গুরুতর হয়, তবে ডাক্তার অক্সিজেন থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
- নেবুলাইজার বা ইনহেলার:
- কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার শিশুর শ্বাসকষ্টের জন্য নেবুলাইজার বা ইনহেলার ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।
- সর্দি বা বুকে কফ থাকলে:
দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে যদি:
- শিশুর শ্বাস খুব দ্রুত বা ধীর হয়ে যায়।
- শিশুর ত্বক নীলাভ হয়ে যায়।
- শিশুর অস্বাভাবিক কম শক্তি বা ঝিমঝিম ভাব দেখা দেয়।
- শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
শিশুর শ্বাসকষ্ট অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। শিশুর শ্বাসযন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।