মাথায় ফাংগাল ইনফেকশন বা টিনিয়া ক্যাপিটিস হলো স্ক্যাল্পের একটি সাধারণ সংক্রমণ, যা ছত্রাকের (ফাংগাস) দ্বারা ঘটে। এটি মাথার ত্বকে খুশকির মতো সমস্যা সৃষ্টি করে এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
মাথায় ফাংগাল ইনফেকশনের কারণ:
- ছত্রাক সংক্রমণ: কিছু ছত্রাক, যেমন ট্রাইকোফাইটন এবং মাইক্রোস্পোরাম, মাথার ত্বকে সংক্রমণ ঘটায়।
- আর্দ্রতা: মাথার ত্বকে বেশি আর্দ্রতা থাকলে ছত্রাকের বৃদ্ধি সহজ হয়।
- অপরিষ্কারতা: নিয়মিত মাথার পরিচ্ছন্নতা না রাখলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে।
- ব্যক্তিগত যোগাযোগ: সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বা তার ব্যবহৃত চিরুনি, টুপি বা তোয়ালে ব্যবহার করলে ছত্রাক ছড়াতে পারে।
লক্ষণ:
- মাথার ত্বকে গোলাকার বা অনিয়মিত প্যাচ দেখা যায়।
- চুলকানি ও জ্বালা অনুভূত হয়।
- ত্বক লালচে ও খসখসে হয়ে যায়।
- মাথার চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
- সংক্রমিত স্থানে চুল ভেঙে পড়তে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
১. ফাংগাল প্রতিরোধক শ্যাম্পু:
- কিটোকোনাজল (Ketoconazole) বা সেলেনিয়াম সালফাইড (Selenium Sulfide) সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাথার ত্বকে ছত্রাক ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
২. ফাংগাল প্রতিরোধক ওষুধ:
- অ্যান্টিফাংগাল ট্যাবলেট: যদি সংক্রমণ খুব গভীর হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ (যেমন, গ্রিসিওফুলভিন বা টেরবিনাফিন) গ্রহণ করতে হবে।
৩. স্থানীয় ক্রিম বা লোশন:
- সংক্রমিত স্থানে ক্লোট্রিমাজল (Clotrimazole) বা মাইকোনাজল (Miconazole) সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. মাথার ত্বক শুকিয়ে রাখা:
- মাথার ত্বক বেশি আর্দ্র না রাখার চেষ্টা করুন। শ্যাম্পু করার পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
৫. ঘরোয়া প্রতিকার:
- নারকেল তেল: নারকেল তেলের অ্যান্টিফাংগাল গুণ রয়েছে। মাথায় নারকেল তেল ম্যাসাজ করলে সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
- লেবুর রস: লেবুর রসও ফাংগাসের বিরুদ্ধে কার্যকর। তবে ব্যবহারের সময় সরাসরি লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।
পরামর্শ:
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- অন্যের চিরুনি, টুপি বা তোয়ালে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
- ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।